| বঙ্গাব্দ

গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি | তারুণ্যের নতুন রাজনৈতিক জোট ২০২৫

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-12-2025 ইং
  • 1967632 বার পঠিত
গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি | তারুণ্যের নতুন রাজনৈতিক জোট ২০২৫
ছবির ক্যাপশন: গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি

একীভূত হচ্ছে গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি: তারুণ্যের নয়া রাজনৈতিক জোটের নেপথ্য সমীকরণ

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে তরুণদের নিয়ে গঠিত দুটি আলোচিত দল—গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা গোপন ও প্রকাশ্য বৈঠকের পর দল দুটির একীভূত হওয়ার বিষয়টি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজেদের শক্তি সুসংহত করতেই এই ঐক্যের পথে হাঁটছেন তরুণ নেতারা।

নেতৃত্ব ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানিয়েছেন, দুই দলের ঐক্য এখন সময়ের দাবি। অন্যদিকে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, একীভূত দলটির নেতৃত্বে নাহিদ ইসলাম ও নুরুল হক নুর শীর্ষ অবস্থানে থাকতে পারেন। আখতার হোসেনসহ গ্রহণযোগ্য তরুণ নেতৃত্বকেই সামনে রাখা হবে। তবে দলের নাম কী হবে—'জাতীয় নাগরিক পার্টি' থাকবে নাকি নতুন কোনো নামে আত্মপ্রকাশ করবে—তা নিয়ে এখনো চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ — ছাত্র ও তরুণ আন্দোলনের সাত দশক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরুণদের এই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টাকে বিশ্লেষণ করতে হলে আমাদের সাত দশকের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিতে হবে:

  • ১৯৫০-এর দশক ও ১৯৫৪-এর জয়গান: ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তরুণরাই ছিল প্রধান শক্তি। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ছাত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণই মুসলিম লীগের পতন নিশ্চিত করেছিল। বর্তমানের তরুণ নেতাদের ঐক্য মূলত ১৯৫৪-এর সেই অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনীতিরই আধুনিক সংস্করণ।

  • ১৯৭০ ও ১৯৭১-এর উত্তাল সময়: ১৯৭০-এর নির্বাচনে ছাত্রদের সাহসী ভূমিকা এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তরুণদের আত্মত্যাগ দেশ স্বাধীনতায় প্রধান ভূমিকা রাখে। বর্তমান তরুণদের 'জুলাই জাতীয় সনদ' মূলত একাত্তরের সাম্য ও সামাজিক সুবিচারের আধুনিক অঙ্গীকার।

  • ২০১৮-এর কোটা সংস্কার ও ২০২১-এর গণঅধিকার: ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানদের নেতৃত্বে 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ' গঠিত হয়, যা পরে ২০২১ সালে রাজনৈতিক দল 'গণঅধিকার পরিষদ' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও এনসিপি: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কারিগর ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই পরবর্তীতে 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' বা এনসিপির জন্ম হয়।

  • ২০২৫-এর বর্তমান চিত্র: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ২৭ ডিসেম্বর রাশেদ খান ও আসিফ মাহমুদের মতো নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতির মাঝে এই দুই দলের একীভূত হওয়ার খবর রাজনীতির ময়দানে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।


বিশ্লেষকদের অভিমত

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বির আহমেদ মনে করেন, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের চিন্তার ঘরানা প্রায় একই। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে তরুণদের বিভাজনের কারণে ভোট বিপর্যয় হয়েছে। তাই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেতে হলে তরুণদের বিভাজিত না থেকে একক প্ল্যাটফর্মে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

একীভূতকরণের মূল প্রভাব: ১. নিবন্ধন জটিলতা: গণঅধিকার পরিষদ নিবন্ধিত দল হওয়ায় অনিবন্ধিত এনসিপির জন্য এটি একটি আইনি ঢাল হিসেবে কাজ করবে। ২. নির্বাচনী কৌশল: একক প্রতীক ও অভিন্ন ইশতেহার নিয়ে লড়লে তরুণ ভোটারদের আস্থা অর্জন সহজ হবে। ৩. বিপরীতমুখী নেতৃত্ব: পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে একটি বিকল্প 'থার্ড পোল' বা তৃতীয় ধারা তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।


সূত্র: ১. বিবিসি নিউজ বাংলা (জান্নাতুল তানভী), ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫। ২. দৈনিক যুগান্তর ও প্রথম আলো অনলাইন আর্কাইভ, ২০২৫। ৩. বাংলাদেশের ছাত্র ও তরুণ রাজনীতির ইতিহাস: উইকিপিডিয়া ও বিসিএস স্টাডি ম্যাটেরিয়াল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency